রবিবার, ২৯ নভেম্বার ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

স্বপন কুমার মন্ডল

Aug. 19, 2020, 11:02 p.m.

কেমন শিক্ষা চাই?
কেমন শিক্ষা চাই?
খবর প্রতীকী। - ছবি: ভোরের আলো।

শিক্ষার ধারণা:
শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেইসব অভ্যাস ও মনোভাবের সৃষ্টি করা যার সহায়তায় সে কৃতিত্বের সাথে ভবিষ্যৎ জীবনের সম্মুখীন হতে পারে এবং অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগের কৌশল শিখতে পারে। এক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, অপ্রয়োজনীয় ও নিষ্ক্রিয় জ্ঞানের জন্য শিক্ষার্থীরা যেন সময় নষ্ট না করে।

শিক্ষা হল একটা সামাজিক ক্রিয়া যা ব্যক্তিকে সামাজিক করে তোলে। প্রথমে শিশুর শিক্ষার দায়িত্ব থাকে পরিবারের ওপর তারপর বড় হওয়ার সাথে সাথে ধীরে ধীরে এ দায়িত্ব বর্তায় স্কুল ও কলেজের ওপর। এভাবে লব্ধ অভিজ্ঞতা থেকে আত্মোপলব্ধিই হচ্ছে শিক্ষা।

সবশেষে বলতে হয়- আত্মোপলব্ধি থেকে লব্ধ ক্ষমতাকে বিকশিত ও অনুশীলন করার জন্য সচেতনভাবে পরিচালিত যে কোন প্রচেষ্টাই শিক্ষা।  [সূত্র:  সমাজ দর্শন বই ]

শিক্ষা অর্জনের জন্য কয়েকটি ধাপ রয়েছে। নিম্নে তা ধাপে ধাপে আলোচনা করা হল:-

১।  সিলেবাস:
শিক্ষার্থীরা কী শিখবে, কেন শিখবে এবং প্রয়োগ করা যাবে কিনা- এর ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন শ্রেণিতে ধাপে ধাপে শিক্ষণীয় বিষয় নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। এক সময়ে যে সিলেবাস প্রয়োজনীয় ছিল, পরবর্তীকালে তা গুরুত্ব হারাতে পারে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে যুগোপযোগী সিলেবাস প্রণয়ন করতে হবে।

মাধ্যমিক পর্যন্ত একমুখী শিক্ষা থাকলে ভাল হয়। পরবর্তীকালে চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার সিলেবাস প্রণয়ন প্রয়োজন। এখানে কর্মমুখী শিক্ষার কথা বলতে চেয়েছি। দেখা যায় গণিত বা রসায়ন নিয়ে একজন শিক্ষার্থী অনার্স মাস্টার্স পাস করে এমন একটা কর্মক্ষেত্রে গেল- যেখানে ঐ বিষয়ের কোন প্রয়োগ নেই। তাহলে ঐ ৫ বছরের সময় বৃথা নষ্ট হল। যেহেতু দেশে চাকুরীর স্বল্পতা আছে, তাই যে যা পায় সে তাই মেনে নেয়। এমন তো হওয়ার কথা নয়। প্রথমেই ঠিক করতে হবে- আগামী ৫ বছর পরে দেশে কী পরিমাণ শিল্প কারখানা হতে পারে- সে অনুযায়ী ইঞ্জিনিয়ারিং, পদার্থ, রসায়নের শিক্ষার্থীসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থীর আসন আগেই ঠিক করতে হবে। আবার যদি দেখা যায়- শিল্প কারখানা না করে দেশে কৃষির সম্ভাবনা বেশি- তাহলে কৃষি ভালভাবে চালানোর জন্য কৃষি অফিসার, কৃষক, কৃষি ইঞ্জিনিয়ার, কৃষি  উপকরণ প্রস্তুত করার জন্য ৫ বছর পূর্বেই ভাবতে হবে। পরিকল্পনা ঠিক না থাকলে কৃষি অফিসার যাবে সমুদ্রে মাছ ধরতে, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার যাবে কৃষিতে। একটা হযবরল অবস্থা হবে।

মাস্টার্সের আসন থাকবে সীমিত। শুধুমাত্র মেধাবীদের মধ্যে যারা শিক্ষকতা, প্রশিক্ষণ ইত্যাদির সাথে যুক্ত তারাই এ কোর্সে শিক্ষা গ্রহণ করবে। আর তা না হলে সকলেই মাস্টার্স পাস করে কম মেধাবীরা দুর্নীতির মাধ্যমে শিক্ষক বা প্রশিক্ষক হিসেবে আসলে দেশের খুবই ক্ষতি হবে। যোগ্য লোককে যোগ্য জায়গায় সেট করলে ফলাফল ভাল পাওয়া যাবে।

উচ্চ মাধ্যমিকের সিলেবাস এবং বিষয় নির্বাচন নিয়ে নিম্নে আলোচনা করা  হল ঃ

সিলেবাসে থাকবে দু ধরণের পাঠক্রম:

১। প্রত্যেক বিষয়ে শিক্ষার্থী নিজেরা পড়ে বুঝতে পারে- এরকম কিছু অংশ থাকবে।

২। প্রত্যেক বিষয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীকে বুঝিয়ে দেবেন (হাতে কলম/অন্য কোন উপায়ে) এরকম কিছু অংশ থাকবে এ অংশটি থাকে প্রায়োগিক। তথ্য উপাত্ত দেয়া থাকলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োগ করতে পারবে।

২।   বিষয় নির্বাচন:

উচ্চ মাধ্যমিকে এমনভাবে বিষয় বিন্যাস করা আছে, এতে ক্লাস রুটিন করা খুব কঠিন। আবার দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা নিতে হয়। তাই বিষয় থাকবে গুচ্ছাকারে। এতে কম সময়ে পরীক্ষা শেষ করা যাবে এবং ক্লাস রুটিন করতেও কোন সমস্যা হবে না।

৩নং এ একাদশ শ্রেণিতে ICT  এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ধর্ম ও মানবিক শিক্ষা থাকবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থী এ বিষয়টি পড়বে। এখানে মানবিক শিক্ষা অংশটুকু সকল শিক্ষার্থীর জন্য একই সিলেবাস থাকবে। শুধুমাত্র ধর্ম অংশটুকু যার যে ধর্ম সে সেই ধর্ম বিষয় নেবে।

বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা আলাদাভাবে পরিসংখ্যান ও কৃষিশিক্ষা পড়বে না। গণিতের মধ্যে পরিসংখ্যানের কিছু অংশ (যদি প্রয়োজন হয়) থাকবে। বলবিদ্যা অংশটুকু পদার্থবিদার সাথে যুক্ত আছে বিধায় গণিতে থাকবে না।

আবার কৃষিবিজ্ঞানের বড় একটা অংশ জীববিজ্ঞানে যুক্ত করতে হবে। উদ্ভিদ বিজ্ঞান এবং প্রাণিবিজ্ঞানের সিলেবাস কাটছাট করে সমন্বয় করতে হবে।

মানবিক বিভাগে ইতিহাস এবং ইসলামের ইতিহাসকে একই বিষয়, সমাজকল্যাণ ও সমাজবিজ্ঞানকে একই বিষয় করা যায় কিনা- ভেবে দেখা যেতে পারে। এরকম আরো এক বিষয়ের সাথে অন্য বিষয় জুড়ে দিলে উচ্চ মাধ্যমিকের কলেবর কিছুটা কমে যাবে। যদি এক বিষয়ে সমন্বয় করা না যায় তবে অবশ্যই গুচ্ছ আকারে থাকতে হবে। এতে ক্লাস রুটিন এবং পরীক্ষার রুটিন করতে কোন সমস্যা হবে না।

ব্যবসায় শিক্ষা:
ফিন্যান্স অথবা বিপণনের সঙ্গে পরিসংখ্যানের কিছু অংশ জুড়ে দেয়া যায় কিনা ভেবে দেখতে হবে।
মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা সিলেবাসে গার্হস্থ্য অর্থনীতি এবং কৃষিবিজ্ঞানের সমন্বয় করা যায় কিনা- তাও দেখা দরকার।

৩।   সেকশন:
    প্রতি সেকশনে ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকবে।প্রতি গ্রুপে সর্বনিম্ন ২ সেকশনের অর্থাৎ ১০০ জন শিক্ষার্থীর অনুমোদন থাকবে। প্রতি বিষয়ে শিক্ষক ২ জন থাকলে ৪ (চার) সেকশনের অনুমোদন থাকতে পারে।

৪।  ক্লাস:
একজন শিক্ষক একটি সেকশনে রুটিনে উল্লেখিত ৫টি অথবা ৬টি ক্লাস করবে। একাদশ ও দ্বাদশ মিলে তার সর্বনিম্ন ২০ অথবা সর্বোচ্চ ২৪টি ক্লাস এক সপ্তাহে করতে হবে। একজন শিক্ষক সর্বোচ্চ ৪টি ক্লাস করবেন। যেখানে বেশি শিক্ষার্থী আছে- সেখানে সর্বনিম্ন ২ জন শিক্ষক আছেন। প্রতিদিন একজন শিক্ষক একাদশে ২টি ক্লাস এবং দ্বাদশে ২টি ক্লাস করবেন।

প্রতিদিন ৭টি ক্লাস 
সপ্তাহে ৬*৭ = ৪২টি ক্লাস 
১। বাংলা ক্লাস-     ৫টি।
২। ইংরেজি ক্লাস-     ৫টি।
৩। ওঈঞ ক্লাস- ৪+১ =     ৫টি
৪। পদার্থ ক্লাস ৫+১ =     ৬টি
৫। রসায়ন ক্লাস ৫+১ =     ৬টি
৬। জীববিজ্ঞান ক্লাস ৫+১ =     ৬টি
৭। গণিত ক্লাস ৫+১ =     ৬টি
৮। টিউটোরিয়াল পরীক্ষা-     ২টি
৯। গাইড ক্লাস/সাধারণ জ্ঞান/সহশিক্ষা-     ১টি
    মোট-     ৪২টি

ICT, পদার্থ/রসায়ন/জীব/গণিতে ৫টি তত্ত্বীয় ক্লাস + ১টি ব্যবহারিক ক্লাস। মোট ৬টি ক্লাস হবে, ব্যবহারিক ক্লাস না হলে সেখানে তত্ত্বীয় ক্লাস হবে।

১। বাংলা
২। ইংরেজি
৩। ওঈঞ
৪। পদার্থ, অর্থনীতি/পৌরনীতি, হিসাব বিজ্ঞান
৫। রসায়ন, ইতিহাস/ইঃ ইতিহাস/ভূগোল, ব্যবস্থাপনা
৬। জীববিজ্ঞান, সমাজকল্যাণ/সমাজবিজ্ঞান, বিপণন
৭। উচ্চতর গণিত, পরিসংখ্যান/গার্হস্থ্য অর্থনীতি/কৃষিশিক্ষা/যুক্তিবিদ্যা/ফিন্যান্স
৮। ঞ=  টিউটোরিয়াল   
৯। এক= সাধারণ জ্ঞান

ভর্তি/ফর্মফিলাপ/একাডেমিক সেশন
৬।   ভর্তি:

বর্তমানের প্রচলিত পদ্ধতিতে ভর্তি প্রক্রিয়ার কলেজ সিলেকশন হবে। সিলেক্টেড কলেজের ব্যাংক একাউন্ট সিলেকশনের দিন মোবাইলে শিক্ষার্থীকে জানিয়ে দিতে হবে। কোন কলেজ একাদশ শ্রেণিতে মোট কত টাকা নিবে তা ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই বোর্ডকে জানিয়ে দিতে হবে। শিক্ষাথীর্ একাদশ শ্রেণির জন্য প্রযোজ্য সম্পূর্ণ টাকা একাউন্টে জমা দিয়ে জমার রশিদের এক কপি কলেজকে দিবে। এতেই ঐ শিক্ষার্থীর ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। একাদশ শ্রেণির ভর্তির সময়ে একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার  (বোর্ড) টাকাও  সংযোজিত থাকবে। ভর্তির টাকা ব্যাংকে দেয়ার সাথে সাথে শিক্ষাবোর্ডের অংশ শিক্ষাবোর্ডের একাউন্টে এবং কলেজের অংশ কলেজের একাউন্টে চলে যাবে। মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য মাধ্যমিকে স্কলারশিপ থাকবে। আবার গরীব শিক্ষার্থীর জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা থাকবে। পূূর্বে গরীব শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কলেজ যে টাকা কম নিত- সরকার অতিরিক্ত উপবৃত্তির টাকা দিয়ে শিক্ষার্থীকে তা পুষিয়ে দেবে। এখানে উল্লেখ্য যে, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে এ টাকা নেয়া যেতে পারে। তবে শিক্ষা সফর অথবা পিকনিক ইত্যাদির জন্য শুধুমাত্র অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে নির্ধারিত টাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিতে পারবে।
দ্বাদশ শ্রেণির ভর্তি এবং বার্ষিক পরীক্ষা (বোর্ড) ও একইভাবে সম্পন্ন হবে।

৭।  একাডেমিক সেশন:
একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া জুন মাসের ২৫ তারিখের পূর্বে শেষ করতে হবে। ক্লাস শুরু হবে ১ জুলাই। ক্লাস শেষ হবে ৩০ মার্চ। আবার জুন মাসের এক তারিখ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হয়ে চলবে ৩০ মার্চ পর্যন্ত। একাদশ ও দ্বাদশ উভয় শ্রেণির অভ্যন্তরীণ বার্ষিক পরীক্ষা ২০ এপ্রিলের মধ্যে  শেষ করে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে রেজাল্ট দিতে হবে। পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নম্বর পত্র শিক্ষাবোর্ডে অনলাইনে জমা দিতে হবে।

৮। বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা:
উচ্চ মাধ্যমিকে একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা হবে একাদশে এবং দ্বাদশ শ্রেণির  বার্ষিক পরীক্ষা হবে দ্বাদশে ।

উচ্চ মাধ্যমিক একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে মে মাসের ২য় সপ্তাহে, শেষ হবে ১৫ দিনের মধ্যে। প্রতি বিষয়ের পরীক্ষার সময় থাকবে ২ঘণ্টা ৩০ মিনিট। সকালে একাদশ, বিকালে দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা থাকবে। প্রতি দুই পরীক্ষার মাঝে একদিন  গ্যাপ থাকবে।

১। বাংলা
২। ইংরেজি
৩। ওঈঞ
৪। পদার্থ, অর্থনীতি/পৌরনীতি, হিসাব বিজ্ঞান
৫। রসায়ন, ইতিহাস/ইঃ ইতিহাস/ভূগোল, ব্যবস্থাপনা
৬। জীববিজ্ঞান, সমাজকল্যাণ/সমাজবিজ্ঞান, বিপণন
৭। উচ্চতর গণিত, পরিসংখ্যান/গার্হস্থ্য অর্থনীতি/কৃষিশিক্ষা/যুক্তিবিদ্যা/ফিন্যান্স

৯।  নম্বর বিন্যাস:

একাদশ শ্রেণির নম্বর ৫০+৫০ = ১০০
১০০ নম্বরকে সমান দুইভাগে ভাগ করে প্রথম অংশ থাকবে কলেজের অধ্যক্ষের কর্তৃত্বে। দ্বিতীয় অংশ বোর্ডের বর্তমান অবস্থার মত পরীক্ষা হবে।

দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষাও একাদশের মত হবে।

প্রথম অংশ (নমুনা):
১। ক্লাস উপস্থিতি-     ১০ নম্বর
২। অর্ধ-বার্ষিক-     ০৮নম্বর
৩। টিউটোরিয়াল-     ১২ নম্বর
৪। বার্ষিক-     ২০ নম্বর
     মোট-     ৫০ নম্বর

অভ্যান্তরীণ ৫০ সম্বর  হিসাব করার নিয়ম:

ক্লাস উপস্থিতি:   নির্দিষ্ট বিষয়ের ক্লাসে মোট উপস্থিতির ১০% ই ক্লাস উপস্থিতির নম্বও হিসেবে গণ্য হবে ।

অর্ধবার্ষিক  :   অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায়  নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রাপ্ত জি.পি কে ২ দ্বারা গুন করে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার নম্বর বের করতে হবে।

টিউটোরিয়াল :  একটি শিক্ষাবর্ষে প্রতি বিষয়ে ২০ নম্বরের ৫টি টিউটোরিয়াল অনুষ্ঠিত হবে। ১০০ নম্বরের মধ্যে প্রাপ্ত জি.পি কে ৩ দ্বারা গুন করে ঐ বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বর বের করতে হবে ।

বার্ষিক পরীক্ষা:  নির্দিষ্ট বিষয়ের  বার্ষিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত জি.পি. কে ৫ দ্বারা গুন করে ঐ বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বর বের করতে হবে ।

দ্বিতীয় অংশ (বোর্ডের অংশ):

৮টি সৃজনশীল প্রশ্ন থেকে যে কোন ৫টি প্রশ্নের উত্তর করবে। এখানে ১নং প্রশ্ন সহ অথবা ৮নং প্রশ্নসহ যে কোন ৫টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এরূপ থাকলে ভাল হয়। বিজ্ঞান বিভাগে একটি বা দুইটি ব্যবহারিক প্রশ্ন দেওয়া যেতে পারে ১নং অথবা ৮নং এ ( তথ্য ও উপাত্ত দেওয়া থাকলে ভাল হয়)।

একাদশ অথবা দ্বাদশে শিক্ষাবোর্ড এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত ফলাফল:
লক্ষণীয় যে, কলেজ থেকে দেওয়া নম্বর এবং বোর্ডের প্রাপ্ত নম্বরের (একই বিষয়ে) পার্থক্য ১০ এর বেশি হলে বোর্ড এর প্রাপ্ত নম্বরের সমান কলেজ প্রদত্ত নম্বর গণনা করা হবে।

লক্ষণীয়:  

২নং এ ইংরেজিতে কলেজ কর্তৃক অতিরিক্ত বেশি নম্বর দেওয়ায় সে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
৩নং এ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অতিরিক্ত কম নম্বর দেওয়ায় সে লাভবান হয়েছে।

৬নং এ জীববিদ্যায়  কলেজ কর্তৃক  অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ায় সে ফেল করেছে। কিন্তু তাকে যদি আরো ৪ নম্বর কম দিয়ে ২৩ দেওয়া হত তবে সে পাস করে যেত।

সুতরাং কোন শিক্ষার্থীকে অতি মূল্যায়ন করলে তার ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি থাকে। আবার অতিরিক্ত কম মূল্যায়ন করায় তার ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে না। এভাবে মুখ দেখে অথবা সুপারিশে চরম নম্বর প্রদান করলে তার ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। তাই সুপারিশ বা অন্য সমস্যা তেমন থাকবে না। আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ও  যথেষ্ট গুরুত্ব থাকে ।

 বর্তমান পদ্ধতিতে ক্লাসে শিক্ষার্থী  খুব কম উপস্থিত থাকে । সেক্ষেত্রে শিক্ষকবৃন্দ (ব্যতিক্রম বাদে) যথেষ্ট চেষ্টা করেও ভাল  সফলতা পাচ্ছেন না ।

এক্ষেত্রে নতুন দুইটি প্রস্তাব দেওয়া হল:-

প্রথম প্রস্তাব:

(ক) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং ধর্ম ও মানবতা বিষয়ে প্রাপ্ত পয়েন্ট থেকে ২ বাদে অতিরিক্ত পয়েন্ট চতুর্থ বিষয়ের মত বোনাস হিসেবে যোগ হবে। 

(খ) বাংলা ইংরেজি বাদে অন্য চারটির মধ্যে যে বিষয়ে কম নম্বর পাবে তার জি.পি থেকে ২ বাদে অতিরিক্ত পয়েন্ট চতুর্থ বিষয়ের মত যোগ হবে।

(গ) সর্বোচ্চ বোনাস পয়েন্ট হবে ৩। অর্থাৎ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং বাংলা, ইংরেজি বাদে অন্য চারটির সবগুলিতে ৪ করে পেলেও বোনাস পয়েন্ট ৪ না হয়ে ৩ হবে।

(ঘ) সব পয়েন্ট যোগ করে ৫ দিয়ে ভাগ করে জি.পি.এ বের করতে হবে।

দ্বিতীয় প্রস্তাব:

(ক) বাংলা, ইংরেজি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয় বাদে অবশিষ্ট ৪টি বিষয়ের সর্বনি¤œ বিষয়টি ৪র্থ বিষয় হিসেবে গণনা করে প্রাপ্ত জি.পি থেকে ২ বাদে অবশিষ্ট পয়েন্ট বোনাস পয়েন্ট হিসেবে গণ্য হবে।

(খ) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং ধর্ম ও মানবতা বিষয়টিতে শুধুমাত্র পাস/ফেল থাকবে। কোন পয়েন্ট যোগ হবে না।

(গ) প্রাপ্ত পয়েন্টকে যোগ করে ৫ দ্বারা ভাগ করে জি.পি.এ নির্ণয় করতে হবে।

(ঘ) সর্বনিম্ন বিষয়ের নম্বর একাধিক হলে ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমিক অনুযায়ী শেষটি চতুর্থ বিষয় হিসেবে গণ্য হবে।

১১।  শিক্ষক নিয়োগ

শিক্ষকের যোগ্যতা:
১।  সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নির্ধারিত সার্টিফিকেট।
২।  কম্পিউটার/পাওয়ার পয়েন্টে দক্ষতা।
৩।  অধূমপায়ী।
৪।  কোন একটি বিষয়ে সহশিক্ষা কার্যক্রমে দক্ষতা থাকতে হবে।
নিয়োগপত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিষয় উল্লেখ থাকতে হবে।
উপরোক্ত পয়েন্টগুলির কোন একটিতে ঘাটতি থাকলে তাকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে না।
 
১২। গাইড ক্লাস/সহশিক্ষা কার্যক্রম:
 একটি প্রতিষ্ঠানে যদি ৪৫০ জন শিক্ষার্থী এবং ২৫ জন শিক্ষক থাকে তবে প্রতি শিক্ষক ২০ জন শিক্ষার্থীর তত্ত্বাবধান করতে পারে। সেক্ষেত্রে ২৫  ২০ = ৫০০ জন শিক্ষার্থীর ফোন নম্বর, পড়াশুনার অগ্রগতি, ব্যক্তিগত সমস্যা সবকিছুরই সমাধান হতে পারে। শিক্ষকদের মধ্যে আবার বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে দক্ষতা থাকতে পারে। যেমন- গান, কবিতা আবৃত্তি, বিতর্ক, খেলাধূলা, নাটক, উপস্থিত বক্তৃতা ইত্যাদি। শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন শিক্ষকের সাথে সমন্বয় করে টিম গঠন করতে পারে। এতে সহশিক্ষা কার্যক্রম পূর্ণতা পায়। সে সকল শিক্ষার্থী স্পেশাল কোন বিষয়ে অংশগ্রহণ করবে না তারা অন্যান্য শিক্ষকের মধ্যে ভাগ হয়ে সাধারণ জ্ঞান গ্রুপে যেতে পারে। এতে সকল শিক্ষার্থীর খবর অধ্যক্ষ মহোদয় সহজে পেতে পারেন। আবার অভিভাবকবৃন্দও  সহজে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কাছ থেকে তার পোষ্যের অগ্রগতি জানতে পারেন। যে কলেজে সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক যত গভীর সে কলেজের রেজাল্ট তত ভাল। এ সকল শিক্ষার্থীরাই পরবর্তীকালে দেশের সম্পদ হয়ে উঠে।

১৩।   ক্লাসের ধরণ:
একটি শ্রেণিতে একটি বিষয়ে সর্বোচ্চ ১০টি (নির্দিষ্ট ১০টি) চ্যাপ্টার থাকবে। প্রতিটি চ্যাপ্টারের উপর ১০টি ক্লাস (ভাল শিক্ষকদের দ্বারা নেয়া) ুড়ঁঃঁনব এ থাকবে। বাংলা এবং ইংরেজি উভয় মাধ্যমে ক্লাসগুলি আলাদাভাবে থাকবে। প্রতিটি অনলাইন ক্লাসের ব্যাপ্তি হবে ৩০ মিনিট। একজন শিক্ষক কোন চ্যাপ্টার পড়ানো শুরুর পূর্বে একটি অধ্যায়ের ১নং এবং ২নং ক্লাস শিক্ষার্থীদের দেখে আসতে বলবেন। শিক্ষক শুধু ঐ দুই ক্লাসের জটিল অংশটুকু এবং শিক্ষার্থীদের না বোঝা অংশটুকু বুঝিয়ে দিবেন। তারপর নিজের ইচ্ছামত কিছু পড়াবেন। বাড়ির কাজ হিসেবে পরবর্তী ২টি ক্লাস দেখে আসতে বলবেন। এভাবে ৫ দিনে অনলাইনের ১০টি ক্লাস আলোচনা করা হবে। পরবর্তীতে আরো ৫টি ক্লাস ঐ চ্যাপ্টারের ওপর নিবেন। এতে মোট ১০টি ক্লাস নেওয়া হবে। ১০টি চ্যাপ্টারের ১০  ১০ = ১০০টি ক্লাস নেওয়া হলেই ঐ বিষয়ের কোর্স সমাপ্ত হবে। শিক্ষার্থীরা সহজে যেন ক্লাসটি খুঁজে পায় সেজন্য বাংলাদেশ এডুকেশন অথবা অন্য কোন নামে একটা ওউ খুলতে হবে। ওউ থেকে শ্রেণি  তারপর বিষয়  তারপর অধ্যায়  ‘ক’ নং ক্লাস এরকম একটি প্রোগ্রাম করলে ভাল হয়।

টেলিভিশনে এরকম একটি চ্যানেল থাকলে ভাল হয় যেখানে বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ক্লাস চলতে পারে। তবে প্রত্যেক শিক্ষার্থী তার ক্লাস কীভাবে দেখতে পারে সে পদ্ধতি বের করতে হবে। চ্যানেল বক্স সিস্টেমে চ্যানেল চালালে এটা সম্ভব বলে মনে হয়। এগুলি ছাড়াও ক্লাসের ওপর পর্যাপ্ত সিডি থাকলে ভাল হয় ।  এ পদ্ধতিতে পড়াশুনা ধীরে ধীরে অনলাইনের দিকে ধাবিত হবে। ফলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান চক্ষু খুলে যাবে। সাথে সাথে গবেষণাধর্মী পড়াশুনার ব্যাপকতা বাড়বে।

১৪।  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধরণ:
সকল প্রতিষ্ঠান হবে সরকারি। এ সকল প্রতিষ্ঠান দেখভাল করার জন্য ৫ সদস্যের একটি কমিটি থাকবে। সদস্য এরকম-
১। অধ্যক্ষ
২। শিক্ষকদের মধ্য থেকে ১ জন
৩। অভিভাবকদের মধ্য থেকে ১ জন
৪। প্রতিষ্ঠাতা/শিক্ষানুরাগীদের মধ্য থেকে ১ জন
৫। মন্ত্রণালয়/বোর্ড প্রতিনিধি ১ জন
পড়াশোনার মান রক্ষা এবং বিভিন্ন উন্নয়মূলক কাজ দেখাশোনা করাই এ কমিটির মূল উদ্দেশ্য।
কমিটির মেয়াদ হবে দুই বছর।

১৫।  শিক্ষা বিনিময়/শিক্ষা সফর:
পড়াশোনার একঘেয়েমি কাটানোর জন্য মাঝে মাঝে রুচি পরিবর্তন দরকার। আর এজন্য শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসফর প্রয়োজন। পরিকল্পনা মাফিক শিক্ষা সফর হলে তা বেশি উপযোগ দেয়। একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যেতে পারে-

মনেকরি ‘ক’ কলেজের শিক্ষার্থী ‘খ’ কলেজে ৬ দিন ক্লাস করবে। এ ছয়দিন কলেজের সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টা ক্লাস করবে। তারপর প্রত্যেকদিন কাছাকাছি দর্শনীয় জায়গা ভ্রমণ করবে। সাধারণত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ভাল কলেজকে বেছে নেয়ার চেষ্টা করবে। যেখানে পড়াশুনার মান ভাল এবং ব্যবস্থাপনাও ভাল। শিক্ষার্থীরা সেই কলেজের পরিবেশ, শ্রেণি ব্যবস্থাপনা এবং পড়াশুনার পদ্ধতিসমূহ অনুধাবন করার চেষ্টা করবে।  শুধুমাত্র শিক্ষার্থীরা তো কোথাও যায় না- তাদের সাথে কয়েকজন শিক্ষক/শিক্ষিকাও থাকেন। কখনও কখনও প্রতিষ্ঠান প্রধানও এতে অংশগ্রহণ করেন। সৃজনশীল শিক্ষক/ শিক্ষিকা এ সকল ভাল গুণ এবং পদ্ধতিসমূহ আত্মস্থ করবেন। পরবর্তীকালে তা নিজের প্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ করে নিজের প্রতিষ্ঠানটিকে আরও ভাল করতে পারেন। যে প্রতিষ্ঠান শিক্ষা সফরে যায়- তাদের ভাল গুণ/ পদ্ধতিসমূহ হোস্ট প্রতিষ্ঠানও গ্রহন করতে পারে। এক্ষেত্রে হোস্ট প্রতিষ্ঠান ও উপকৃত হতে পারে। ছাত্র-ছাত্রীরাও তাদের কিছু নতুন বন্ধু খুঁজে পায়। শিক্ষক/শিক্ষিকাদের মধ্যেও পারস্পরিক পরিচিতি বেড়ে উঠে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কও গভীর থেকে গভীরতর হয়। খেলাধুলা, গান-বাজনায় পারদর্শীরা এক্ষেত্রে সকলকে মাতিয়ে রাখতে পারে। শেষ দিন একটা ছঁবংঃরড়হহধরৎব এর মাধ্যমে সফরের উৎকর্ষতা পরীক্ষা করা যেতে পারে। এতে উভয় প্রতিষ্ঠানই একে অপরকে বুঝতে এবং মূল্যায়ন করতে পারবে।

সাইট পরিদর্শন:
নতুন জায়গায় গিয়ে স্বচক্ষে বিভিন্ন কিছু পরিদর্শন করে সফরকারীরা চিত্তকে সৃজনশীল করে তুলতেপারে। আজকাল অনেকের কাছেই ভাল মোবাইল আছে- সেগুলো দ্বারা ভাল দৃশ্যের সাথে নিজের স্মৃতি ধরে রাখতে পারে। প্রবাদ আছে- বই পড়ে মানুষ যা শিখে- ভ্রমণের মাধ্যমে তার চেয়ে অনেক বেশি শিখে। পরিকল্পনা মাফিক ভ্রমণ চিত্তকে একঘেয়েমী থেকে মুক্ত করেও, মনে প্রশান্তি এনে দেয়। এক্ষেত্রে আমার রোভার স্কাউটের কথা মনে পড়ে। রোভাররা সারাদিনের ক্লান্তি রাতের তাবু জলসার মাধ্যমে ঝেড়ে ফেলে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের মত করে রাত ৮টার সময় অথবা তাদের নির্ধারিত সময়ে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করতে পারে। এতে মনও কিছুটা প্রফুল্ল থাকে।

পড়াশোনা:
এ কয়দিন শিক্ষার্থীরা অল্প অল্প করে পড়াশোনা করে নিজেদের ক্লাসের উপযোগী করে তুলতে পারে। শিক্ষকবৃন্দও হোস্ট প্রতিষ্ঠানে ক্লাস নিতে পারেন।
সবকিছু মিলিয়ে এই সাতদিন শিক্ষার্থীদের সারা বছরের অনুপ্রেরণা যোগাবে। তারা ছাত্রজীবনটাকে নতুনভাবে উপলব্ধি করার চেষ্টা করবে। শিক্ষার্থীরা একঘেয়েমী থেকে বেরিয়ে আসবে এবং ছাত্রজীবনটাকে আনন্দের সাথে উপভোগ করার চেষ্টা করবে।

অর্থ ব্যবস্থাপনা:
বাছাই করা শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ সফরের আয়োজন করতে হবে। স্বচ্ছল শিক্ষার্থীরা সফরের খরচ নিজেরা বহন করবে। অস্বচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের খরচ প্রতিষ্ঠান বহন করবে। এক্ষেত্রে সরকার বা অন্য কোন ব্যক্তি/ প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদানও নেওয়া যেতে পারে।

থাকার জায়গা:
অনেক ভাল প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে হোস্টেল আছে। আবার ঐঝঞঞও বা এ ধরণের কোন আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ট্রেনিংয়ের মাঝে ফাঁকা সময়ের সুযোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। সরকারের সুদৃষ্টি থাকলে ভাল প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের থাকার জায়গার ব্যবস্থা করতে পারে।

প্রতিবন্ধকতা:
শুধুমাত্র ছাত্রীদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা হতে পারে। অভিভাবকরা তার মেয়েকে বাইরে একা ছাড়তে চান না। ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট ভাল থাকলে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে এ সফরে সমস্যা হবে না।

উপসংহার:
চীন-জাপান অথবা বাইরের কোন দেশে ভ্রমণের সুযোগ সকলের হয় না। নিজের দেশেও অনেক ভাল প্রতিষ্ঠান এবং ভ্রমণের জায়গা আছে- তা দেখেই তৃপ্ত থাকা যেতে পারে এবং এ সাথে যেটুকু জ্ঞান অর্জন করা যায়- তার মূল্যও অনেক। শিক্ষার্থী-শিক্ষক সম্পর্কই পারে সঠিক শিক্ষা দিতে। এ সফরের মাধ্যমে আনন্দলাভ ও জ্ঞানার্জন দুটোই হতে পারে।

শিক্ষার ধারণা
সমাজ দর্শন, ব্যনার্জী পাবলিশার্স,৫/১ কলেজ রো ,কলকাতা,  ১৯৮৬।


স্বপন কুমার মন্ডল
সহকারি অধ্যাপক (গণিত)
অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়, বরিশাল।