মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবার ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭

সাইফুর রহমান মিরণ

Aug. 19, 2020, 11:30 p.m.

করোনায় স্বাভাবিক দেশ,বন্ধ কেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান?
করোনায় স্বাভাবিক দেশ,বন্ধ কেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান?
ভোরের আলো - ছবি:

কোভিড-১৯ করোনায় এখনো মৃত্যুর সংখ্যা কমছে না। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে শঙ্কা-ভয় বলতে কিছু আছে বলে মনে হয় না। সরকারি সিদ্ধান্তে লঞ্চ, বাসসহ সবধরণের গণপরিবহণ স্বাভাবিকভাবে চলছে। মাওয়া-আরিচায় প্রতিদিন জনসমুদ্র বইছে। বাজার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস সর্বত্র স্বাভাবিক ভাব। রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় এবং জেলা শহরে কিছু মানুষ মাস্ক পড়লেও উপজেলা-গ্রামগঞ্জে কোন কিছুই মানছে না মানুষ। আইন এবং নির্দেশনা দিয়ে জনসমাগম বন্ধ করা যাচ্ছে না। কেবল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে কি করোনা ঠেকানো সম্ভব হবে? হবে না। তাহলে এখনো কেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে? যদি সবকিছু স্বাভাবিক গতিতে চলতে দেওয়া হয়, তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও খুলে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন অনেক শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

আমরা জানি, কেবল ভীড় এড়াতে এবং করোনা প্রকোপ ঠেকাতে সরকার স্কুল, কলেজ বিশ^বিদ্যালয়সহ সবধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক যে, স্কুল কলেজেসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের রক্ষায় সরকার এমন ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু যে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে থাকার কথা তারাই কিন্তু বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজনসহ লঞ্চ, স্টীমার, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন ও বাসস্টেশনে ভীড় জমাচ্ছেন। যত ভীড় আমরা লঞ্চ, বাস, ফেরিঘাট এবং গ্রামগঞ্জে দেখছি, তার চেয়ে কি স্কুল কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভীড় বেশি হবে? বাস্তব চিত্র বলছে না। কোরবানী ঈদের আগে ও পরে সব লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করেছে। কোন লঞ্চেই সাধারণ মানুষের ভীড়ে পা ফেলার জো ছিল না।
আমরা মনে করি যদি এটাকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া হয়, তাহলে আর স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ^বিদ্যালয়সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার দরকার কি। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা না হওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী হতাশার মধ্যে পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা গত প্রায় ৬ মাস ধরে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বাইরে রয়েছে। সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে না পেরে অনেকেই বিমর্ষ হয়ে পড়েছে। তাদের শিক্ষা জীবনে ফিরিয়ে আনা দরকার।

আমরা বলতে চাই, করোনা মহামারী থেকে দেশ এবং দেশের মানুষদের রক্ষা করার কোন বিকল্প নেই। করোনার প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষার জন্য যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেটা অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু সেই উদ্যোগ কেবল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বলবৎ থাকলেই হবে না। জনসমাগম হয় এমন সবক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। বলা হচ্ছে স্বল্প পরিসরে গণপরিবহন চালু হয়েছে। আমাদের দেশের বাস্তব চিত্র কি সে কথা বলে? এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে, দুইজনের ভাড়া নিয়ে পাশের সিটে অন্য যাত্রী বসানো হচ্ছে।

আমরা চাই, সরকারের নেওয়া উদ্যোগে বাস্তবায়ন হোক। সেটা কেবল রাজধানী ঢাকা ও জেলা-উপজেলা সদরে নয়, গোটা দেশে। গোটাদেশে শরীরিক দূরত্ব বজায় না থাকলে, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে কেবল স্কুল কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে করোনা ঠেকানো সম্ভব হবে না। তাই করোনা মোকাবেলায় হয় কঠোর অবস্থান নিতে হবে, তা না হলে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলতে দিতে হবে। করোনার সঙ্গে থেকে থেকেই জীবন চলায় অভ্যস্ত করতে হবে।