সোমবার, ১৯ অক্টোবার ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭

সাইফুর রহমান মিরণ, বরিশাল

Sept. 6, 2020, 9:16 p.m.

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এক শিক্ষককে পদোন্নতি দিতে বোর্ডের সভা !
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এক শিক্ষককে পদোন্নতি দিতে বোর্ডের সভা !
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। - ছবি:

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক শিক্ষক পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য। কিন্ত তাদের মধ্যে কেবল একজন শিক্ষককে পদোন্নতি সুবিধা দিতে বোর্ডের সভা আহ্বানের অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় পদোন্নতি বঞ্চিত শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভ এবং অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ দাবি করেছে পদোন্নতি জটিলতা নিরসন করে পর্যায়ক্রমে সকলকে পদোন্নতি দেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে লোক প্রশাসন বিভাগের প্রভাষক হোসনেয়ারা ডালিয়াকে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য সোমবার পদোন্নতি বোর্ডের সভা আহ্বান করা হয়েছে।
পদোন্নতি বঞ্চিত শিক্ষকদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও ডীন প্রফেসর মু. মুহসীনউদ্দীন অর্ধ শতাধক শিক্ষককে বাঞ্চিত করে কেবল একজন শিক্ষকোর পদোন্নতির জন্য সভা আহ্বান করেছেন।

জানা যায়, ২০১২ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট নিয়োগকৃত শিক্ষকের সংখ্যা ১৯২জন। এর মধ্যে শিক্ষা ছুটি ব্যতিত কর্মরত আছেন ১৪৮জন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র দুইজন অধ্যাপক রয়েছেন। সহযোগী অধ্যাপক নেই একজনও। সহকারী অধ্যাপক ৮৯ জন এবং ৮৭জন প্রভাষক।

বিশ^বিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী প্রভাষক পদে নিয়োগ পাবার ৩ বছর পর সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাবার কথা। সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতির ৭ বছর পর সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাবেন। তবে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন প্রভাষকদের ক্ষেত্রে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেতে প্রয়োজন ৫ বছর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক পদে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রভাষক পদে ৩ বছরের অধিক সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও প্রায় ৫০জন শিক্ষককে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে না। আবার সহকারী অধ্যাপক পদে নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি আটকে আছে অন্তত ২০জন শিক্ষকের। তারা সবাই পদোন্নতির জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে। তাদের পাশ কাটিয়ে লোক প্রশাসন বিভাগের প্রভাষক হোসনেয়ারা ডালিয়াকে পদোন্নতি দেয়ার জন্য বোর্ডের সভা আহ্বান করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা জানান, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ২জন অধ্যাপক আছে। তাদের মধ্যে একজন ড. মু. মুহসীন উদ্দীন ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান এবং অপরজন অধ্যাপক ড. হাসিনুর রহমান। তিনি শিক্ষা ছুটিতে দেশের বাইরে। কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে একমাত্র অধ্যাপক হওয়ায় ড. মুহসীনউদ্দীনকে ডীন এবং রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ড. মু. মুহসীন তার ক্ষমতার অপব্যাবহার করে বিগত উপাচার্যের সময় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক শরীফা শিরিনকে মাত্র ১১ মাসে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাইয়ে দিয়েছেন। বর্তমান উপাচার্যকে ভুল বুঝিয়ে পদোন্নতির দাবীদার সকলকে পাশ কাটিয়ে একজন শিক্ষককে বিশেষ সুবিধা দিতে পদোন্নতি বোর্ডের সভা আহ্বান করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও ডীন অধ্যাপক ড. মু. মুহসীনউদ্দীন ভোরের আলোকে বলেন, পদোন্নতি দেওয়া রেজিস্ট্রারের এখতিয়ারে নয়।  রেজিস্ট্রার কেবল বোর্ড সভা ডাকার সুপারিশ করতে পারে। একজন শিক্ষকের একটি পদ থাকলে তো একজন শিক্ষকের জন্যই সভা ডাকতে হবে। সকল শিক্ষককে পাশ কাটিয়ে সভা আহ্বানের অভিযোগ সঠিক নয়। যে বিভাগের একজন শিক্ষকের কথা বলা হয়েছে, সেখানে ওই শিক্ষকের পদোন্নতি আগে দেওয়া না গেলে অন্য দুইজন পদোন্নতি বঞ্চিত হবেন। তারা ৩জনই পদোন্নতি পাওয়ার যোাগ্য।  অভ্যন্তরীণ জটিলতা কাটানোর জন্যই ওই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

বিগত ভিসির আমলে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক শরীফা শিরিনকে তার ডিউ সময়ের আগে প্রমোশন দেয়ার কথা স্বীকার করে ড. মুহসীনউদ্দীন বলেন, তার (শরীফা শিরিন) ক্ষেত্রে কথা সত্য। তবে তার আগে এভাবে আরও ৩জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটা ভালো হয়নি ঠিক। এ জন্য তাকে দায়ী করা দুঃখজনক। 

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. খোরশেদ আলম বলেন, অনেকের দির্ঘদিন পদোন্নতি আটকে আছে। নতুন উপাচার্য আসার পর শিক্ষক সমিতির নতুন কমিটির দাবি ছিলো দ্রুত সবার পদোন্নতি নিশ্চিত করা। যত দ্রুত সম্ভব পদোন্নতির দাবীদার সবাইকে পদোন্নতি দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন ভোরের আলোকে বলেন, লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক হোসনেয়ারা ডালিয়া ৫ বছর ধরে প্রভাষক পদে আছেন। অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে তাঁকে পদোন্নতি দেওয়া না হলে ওই বিভাগের বাকি দুইজন পদোন্নতি বঞ্চিত হবেন। ওই জটিলতা নিরসনের জন্যই একজন শিক্ষকের জন্য বোর্ড আহ্বান করা হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিশ^বিদ্যালয়ের ২৪ বিভাগের ৪০জন প্রভাষক পদোন্নতি পাবেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে সবার পদোন্নতি হয়ে যাবে। একই প্রক্রিয়ায় সহকারী অধ্যপকদের পদোন্নতি দওয়ার কাজও শুরু করা হবে। করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকে কমিটির ময়াদ শেষ হওয়ায়ও সমস্যা দেখা দিয়েছে। সেগুলোও হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।