শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বার ২০২০, ৪ আশ্বিন ১৪২৭

সাইফুর রহমান মিরণ

Sept. 8, 2020, 11:52 p.m.

করোনায় সন্তানদের প্রতি বাড়তি নজর দিতে হবে
করোনায় সন্তানদের প্রতি বাড়তি নজর দিতে হবে
সম্পাদকীয় । - ছবি: ভোরের আলো।

কোভিড-১৯, করোনায় গোটা দুনিয়াকে পাল্টে দিয়েছে। মহামারী করোনায় বিপর্যস্ত বিশ্স্বাবস্থ্যসহ বিশ্ব অর্থনীতি। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে বন্ধ রয়েছে দেশের শিক্ষা কার্যক্রম। বর্তমানে এই দুর্যোগ সন্তানদের ওপর প্রভাব ফেলেছে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ছে শিশু ও শিক্ষার্থীরা। সারাদিন বাড়িতে থকে থেকে তারা মানসিক চাপের মধ্যে পড়েছে। এখান থেকে উত্তোরণ ঘটাতে সন্তানদের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া একান্ত আবশ্যক। পরিবারের সদস্যদের নিবিড়ভাবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থেকে তাদের মানসিক চাপ কমাতে সহযোগী হতে হবে।

করোনার কারণে গত মার্চ মাস থেকে সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, অফিস-আদালত সবই মোটামুটি স্বাভাবিকভাবে চলছে। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা না দেখে শিক্ষার্থীর চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। স্কুল-কলেজ-বিশ^বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের অনেকটা কর্মহীন এবং অসহায় মনে করছে। এই সময়টায় সন্তানকে স্বাভাবিক রাখতে নিবিড়ভাবে তাঁর মনকে বুঝতে হবে। অবশ্যই তাঁদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে কোন কিছু চাপিয়ে দেওয়া সঠিক হবে না। দীর্ঘদিন বাড়িতে থেকে থেকে তারা অনেকটা বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারে। সেখান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে তাদের সহযোগী হতে হবে।

করোনার কারণে পিএসসি, জেএসসি পরীক্ষা হবে না এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যদিকে মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ হলেও উচ্চমাধ্যমিকের জট রয়ে গেছে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিতই হতে পারেনি। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেলসহ উচ্চ শিক্ষার ভর্তি নিয়েও তাদের মধ্যে নতুন শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরীক্ষা হওয়া না হওয়ার দোলাচলে শিক্ষার্থীদের জীবন দুলছে। তাই তাদের ওপর মানসিক চাপও বাড়ছে। তাদের এই মানসিক চাপ কমাতে বাবা-মা, অভিভাবক, শিক্ষকসহ সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।

আমাদের সন্তানরা দেশের সম্পদ। ওরাই একদিন দেশকে নেতৃত্ব দেবে। ওদের সম্ভাবনাময় জীবনকে গড়ে তোলার দায়িত্বও আমাদের। করোনার কারণে ওরা যে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে সেখান থেকে তুলে আনতে হবে আমাদের। সেজন্য বাড়িতে পড়াশুনার প্রতি চাপ না দিয়ে গল্প-উপন্যাস পড়ার দিকে আগ্রহী করে তুলতে হবে। একই সঙ্গে বাড়িতেই সহশিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। মোটকথা সন্তানকে বাড়িতে আনন্দের মধ্যে রাখার চেষ্টা করতে হবে। তাদের সামনে সবসময় ইতিবাচক কথা বলতে হবে। করোনার এই দুঃসময়ে ঘরবন্দি সন্তানদের সঙ্গে নেতিবাচক কথা বলে তাদের বিরক্ত না করাই হবে উত্তম। যতোদিন পর্যন্ত শিক্ষা জীবন স্বাভাবিক না হয় ততোদিন বাবা-মা আত্মীয়-স্বজনদের এই দায়িত্ব গ্রহণ করতেই হবে।