শনিবার, ২৪ অক্টোবার ২০২০, ৯ কার্তিক ১৪২৭

সাইফুর রহমান মিরণ

Sept. 10, 2020, 12:07 a.m.

হাসপাতাল চত্বরে বর্জ্য বিপর্যয় ঠেকাতে উদ্যোগ নিন
হাসপাতাল চত্বরে বর্জ্য বিপর্যয় ঠেকাতে উদ্যোগ নিন
ভোরের আলো - ছবি:


হাসাপাতালের বর্জ্যে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বরিশাল সিটি করপোরেশন হাসপতাল এলাকার অপরিশোধিত বর্জ্য অপসারণ বন্ধ করে দিয়েছে। গত প্রায় ৬ মাস ধরে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে হাসপাতল চত্বরেই রক্তমাখা গজ-ব্যা-েজ, সুইসহ ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ফেলছে। ওইসব বর্জ্য কাক-কুকুর ও বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশ এলাকায়। ঘটছে চরম পরিবেশ বিপর্যয়। হাসপাতাল এলাকার এমন অবস্থায় সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজন ছাড়াও চিকিৎসক-নার্সরাও স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। তাই দ্রুত হাসপাতালের ওইসব বর্জ্য অপসারণে উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

বরিশাল বিভাগের এক কোটির বেশি মানুষের আধুনিক চিকিৎসার ভরোসা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। প্রতিদিন হাসপাতালে ২ হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। বর্তমান বিশ্ব মহামারী করোনা রোগীর চিকিৎসাও দেওয়া হচ্ছে এই হাসপাতালে। এর সঙ্গে আরও কম পক্ষে দুই-তিন হাজার মানুষ হাসপাতলে আসা-যাওয়া করে। এত রোগী থাকায় প্রতিদিন হাসপতালে ৫০০ কেজির বেশি ক্লিনিক্যাল বর্জ্য জমা হয়। ওইসব বর্জ্যে অসংখ্য জীবানু থাকে। জীবানুযুক্ত বর্জ্য হাসপাতাল চত্বরে খোলা আকাশের নীচে ফেলে রাখায় রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। খোলা জায়গায় হাসপাতালের বর্জ্য ছড়িয়েছিটিয়ে পুরো এলাকা পরিবেশ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। করোনা ওয়ার্ডসহ পুরো মেডিকেলের বর্জ্য অপসারণ বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আমরা জানি, করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর সারা দেশ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। এর মধ্যেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে নগর-বন্দর পরিচ্ছন্ন করে চলেছেন। হাসপাতালের বর্জ্য সিটি করপোরেশন অপসারণ করে না, সারা দেশের করপোরেশনগুলোতে এমন নজির নেই। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটসহ সব বড় বড় শহরের হাসপতালের বর্জ্য সিটি করপোরেশন স্বাভাবিক সময়ের মতোই অপসারণ করছে। বরিশালে হাসপাতালের বর্জ্য অপসারণ না করায় দুর্ভোগে পড়েছে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, রোগ ও স্বজনরা। দ্রুত সিটি করপোরেশন বর্জ্য অপসারণ শুরু করবে এমনটা প্রত্যাশা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ দাবি করেছে, হাসপাতাল বর্জ্য অপসারণ করার সময় নগরীতে করোনা ছড়িয়ে পড়তে পারে। সেই আশঙ্কায় গত এপ্রিল থেকে তারা হাসপাতালের বর্জ্য অপসারণ বন্ধ করে দিয়েছেন।

চিকিৎসকরা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, করোনা ওয়ার্ডের বর্জ্য থেকে করোনা ছড়ানোর সম্ভানা ক্ষীণ। এই বর্জ্য থেকে করোনা ছড়াবে না এমনটাই বলেছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। কিন্তু খোলা জায়গায় ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ফেললে অন্যান্য রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলায় চরম পরিবেশ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। করোনা ছড়িয়ে পরার আশঙ্কা থেকে সিটি করপোশেন বর্জ্য অপসারণ বন্ধ রেখেছে, এটা কোন যুক্তি হতে পারে না। 

আমরা চাই, হাসপাতালের পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে দ্রুত হাসপাতাল বর্জ্য অপসারণে সিটি করপোরেশন উদ্যোগ গ্রহণ করবে। প্রয়োজনে ওই এলাকায় কাজ করার জন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রি সরবরাহ করতে হবে। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেই হাসপাতাল বর্জ্য অপসারণে উদ্যোগ নেওয়া জরুরী। সিটি করপোরেশন অবশ্যই এব্যাপারে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।