শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বার ২০২০, ৪ আশ্বিন ১৪২৭

সাইফুর রহমান মিরণ

Sept. 10, 2020, 11:31 p.m.

মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল কমাতে হবে
মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল কমাতে হবে
ভোরের আলো - ছবি:

সারা দুনিয়ায় করোনা একটি মহামারীর নাম। এই দুর্যোগ মোকাবেলায় বিশে^র সঙ্গে বাংলাদেশও একযোগে কাজ করছে। করোনায় প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে মানুষ। যদিও করোনায় আক্রান্ত রোগীর তুলনায় মৃত্যুহার খুবই কম। ১ থেকে ২ দশমিক ২১ ভাগ। করোনা রোগের কোন প্রতিশেষক ব্যবস্থা না থাকায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। আশা করা যায় প্রতিশেধক ব্যবস্থা চালু হলে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমবে। অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার শূন্যে নেমে আসবে বলে বিশ^ স্বস্থ্যবিশেষজ্ঞদের মত।

বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত না হয়েও প্রতিদিন যে মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে। সেই মিছিল বন্ধ করবে কে? মহাসড়কে প্রতিশেধক সকল ব্যবস্থা থাকার পরও মহাসড়কের মৃত্যুর মিছিল থামানো যাচ্ছে না। মহাসড়কে যত সংখ্যক মানুষের প্রাণ যাচ্ছে সে তুলনায় করোনায় প্রাণহানি কম। করোনা মহামারী হিসেবে দেখা দিলেও মৃত্যুহার কম। অথচ কেবল সতর্ক না থাকা এবং বেপরোয়া গাড়ির গড়ি নিত্য কেড়ে নিচ্ছে প্রাণ। কোন ব্যবস্থা না থাকার পরও করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। অথচ সকল ব্যবস্থা থাকলেও মহাসড়ক নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। করোনায় সমন্বিত উদ্যোগ আমাদের ইতিবাচক জায়গায় নিয়ে এসেছে। করোনার চেয়েও আমাদের দেশের মহামারী হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা। আমাদের উচিত সড়ক ব্যবস্থাপনায়ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া। সড়কের এই মৃত্যুর মিছিল কমাতে কার্যকরী উদ্যোগ নিতেই হবে।

করোনায় বাংলাদেশে প্রতিদিনের মৃত্যুর যে তালিকা পাওয়া যায় তাতে দেখা যায়, গড়ে ২২ থেকে ৩২জন। করোনার টিকা বের হলে এই মৃত্যুর তালিকা অনেক ছোট হবে। কিন্তু এক সমীক্ষায় দেখো গেছে বাংলাদেশে প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় ৬৪জন। যা নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহন ও অসচেতনতার জন্য। কেবল অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি চালানোর কারণে গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুর এলাকায় এক পরিবারের ৪জনসহ ৬জন মারা গেছে। আহত হয়েছে অন্তত ১০ যাত্রী। মৃত শিশুকে নিয়ে বরিশাল ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স-যাত্রীবাহীবাস ও কভার্ডভ্যানের ত্রিমূখি সংঘর্ষে ওই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এটা তো কেবল একটি ঘটনা। প্রতিদিন সারা দেশে এরকম মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে বেপরোয়া যানবাহন।

সড়ক দুর্ঘটনার এক দিনে ৬৪জন মারা গেলে এক মাসের তালিকা দাঁড়ায় ১ হাজার ৯২০জনে। এক বছরের হিসেব উল্লেখ করলে তালিকার বহর বাড়বে। এই মৃত্যুর মিছিলের জন্য সাধারণ মানুষ কোনভাবেই দায়ী নয়। দায়ি বেপরোয়া যানবাহন, অবৈধ যানবাহন, দিনের বেলা ট্রাক চলাচল। মহাসড়কের অব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বাড়ছে দুর্ঘটনা। বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। দীর্ঘ হচ্ছে স্বজন হারানোর তালিকা। তাই মহাসড়ক নিরাপদ করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কেবল সদিচ্ছাই মহাসড়কের মৃত্যু মিছিল কমাতে পারে।