সোমবার, ১৯ অক্টোবার ২০২০, ৪ কার্তিক ১৪২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

Sept. 21, 2020, 9:38 p.m.

বরিশালে বিএম একাডেমীর আয়োজনে ব্যতিক্রমী "তাল উৎসব"
বরিশালে বিএম একাডেমীর আয়োজনে ব্যতিক্রমী "তাল উৎসব"
সোমবার সকালে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী গ্রামেতাল উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান। - ছবি:

তাল গাছ বজ্রপাত ঠেকায়। তাই তাল গাছের বীজ রোপন ও তালগাছের ব্যবহার বাড়াতে ব্যতিক্রমী তাল উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। তালবীজ বপন ও তালের ব্যবহার বাড়াতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতেই ওই উৎসবের আয়োজন করা হয়। গ্রামীণ নারীদের হাতে তৈরী ‘তাল পুলি, কেক, মালপোয়া, তালপোয়া, পাটিশাপটা, তাল মালাই, তালের বড়া, তাল ফোপড়া, তাল ফাঁপাসহ নানা রকম পিঠা উৎসবের মূল আকর্ষণ।


সোমবার সকালে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী গ্রামের দেড়শতাধিক বছরের পুরানো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিএম একাডেমী আয়োজিত তাল উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান।


বিজ্ঞানে তালগাছ বজ্রনিরোধক বলে ব্যাখ্যা দেওয়ার পর সারা দেশে তালবীজ বপনের হিরিক পড়েছে। বরিশাল জেলা প্রশাসন ১০ উপজেলায় ১ লাখ তালবীজ রোপনের কর্মসূচি শুরু করেছে। এবার তালবীজ বপন ও তালের ব্যবহার বাড়াতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে এক ব্যতিক্রমী ‘তাল উৎসবের’ আয়োজন করেছে বরিশালের বাকেরগঞ্জের দেড়শ’ বছরের পুরনো কলসকাঠী বিএম একাডেমী। 

একদিকে ছিলো গ্রামীণ নারীদের হাতে তৈরী ‘তাল পুলি, কেক, মালপোয়া, তালপোয়া, পাটিশাপটা, তাল মালাই, তালের বড়া, তাল ফোপড়া, তাল ফাঁপাসহ নানা রকম পিঠা।  অন্যদিকে ছিলো তাল বীজ ও তালগাছ সম্পর্কিত প্রদর্শনী এবং তালের ইতিহাস, দেশ-বিদেশে তালগাছের নানা অজানা কথা, তালগাছ নিয়ে লেখা গল্প, কবিতা ও ছড়র আয়োজনা। কিভাবে তালগাছ মানুষের কাজে লেগে আসছে এবং আগামীতেও তালগাছ কিভাবে মানুষের জীবন-জীবিকাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে সেসব আলোচনা স্থান পায় ‘তাল উৎসবে’। অনুষ্ঠানে স্কুলের খুদে শিক্ষার্থীরা নানা ধরণের তালপাতার পাখা তৈরি করে। 

বিএম একাডেমী পরিচালনা পর্যদের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মাধবী রায়, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আকমল হোসেন, বাকেরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আকরাম হোসেন, কলসকাঠী বিএম একাডেমীর প্রধান শিক্ষক দীপক কুমার পাল, জেলা প্রশাসনের প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ, বাকেরগঞ্জ সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এইচএম জাফর আহমেদ, কলসকাঠী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু তরুণ কুমার গাঙ্গুলী, জনতা ব্যাংক কলসকাঠির শাখা ব্যবস্থাপক শাহানুর আজিজ ও গ্রামীণ ব্যাংক অলংকার শাখা ব্যবস্থাপক ফজলুর রহমান।

 আলোচকরা বলেন, ‘আম উৎসব, ইলিশ উৎসব হতে পারে, তাহলে তাল উৎসব নয় কেন। শ্রাবণের শেষ থেকে ভাদ্রের প্রথম ভাগে গ্রামে তালের নানা পিঠার আয়োজন হয়ে আসছে। সেই রেওয়াজ অনেকটাই হারিয়ে গেছে। নতুন প্রজন্ম তালের ব্যবহার সম্পর্কে কিছুই জানে না। তালকে নতুন প্রজন্মের মাঝে পরিচয় করিয়ে দেওয়াসহ বজ্রপাত রোধে তাল বীজ বপনে এই ‘তাল উৎসব’ আয়োজন সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান।