বুধবার, ২৮ অক্টোবার ২০২০, ১৩ কার্তিক ১৪২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

Sept. 22, 2020, 12:24 a.m.

কোন দিন শিক্ষকতা না করেই কলেজ অধ্যক্ষ! দুই হাতে অর্থ কামানোর অভিযোগ
কোন দিন শিক্ষকতা না করেই কলেজ অধ্যক্ষ! দুই হাতে অর্থ কামানোর অভিযোগ
খবর প্রতীকী। - ছবি: ভোরের আলো।

তিনি নিজে কোন দিন শিক্ষকতা করেননি। নতুন প্রতিষ্ঠিত একটি কলেজের অধ্যক্ষ হয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ইচ্ছেমতো নিয়োগ দিচ্ছেন আর দুই হাতে অর্থ কামাচ্ছেন। অফিস সহকারী নিয়োগে ৫ লাখ,  লাইব্রেরিয়ানে ৬ লাখ, জীব বিজ্ঞানের প্রদর্শক পদে ৫ লাখ এবং অন্যান্য শিক্ষক পদে ৮ থেকে ১৫ লাখ টাকা করে আদায় করে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আলোচিত এই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। এর আগে ২০১৫ সালে যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীরা তার দাবি অনুযায়ী অর্থ না দেয়ায় ১৭ জন শিক্ষক এবং ১জন অফিস সহকারীকে চাপ সৃষ্টি করে চাকুরী ছেড়ে দিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

আলোচিত কলেজ শিক্ষকের নাম মো. আনোয়ার হোসেন বাবুল। তিনি ২০১৪ সালে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের আলিমাবাদের গাগুরিয়ায় প্রতিষ্ঠিত ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনা মহাবিদ্যালয়’ ম্যানেজিং কমিটি মনোনীত অধ্যক্ষ। নিজে কোন দিন শিক্ষকতা করেননি এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ওই কলেজের অধ্যক্ষ হননি বলে স্বীকার করেন আনোয়ার হোসেন।

২০১৫ সালের ২০মে একটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী একই বছরের ১৭ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) প্রতিনিধি প্রফেসর খন্দকার অলিউল ইসলাম এবং কলেজ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ নাথ সহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে ১৯টি বিষয়ের জন্য ২২জন প্রভাষক এবং ৬ জন কর্মচারী নিয়োগ করা হয়। 

নন এমপিও হওয়ায় নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে বিনা বেতনে গত প্রায় ৫ বছর ধরে শিক্ষকতা এবং অন্যান্য কার্যক্রম করে আসছিলেন প্রভাষক সহ কর্মচারীরা। এদের মধ্যে কৃষি শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক নুসরাত জাহান কলেজের একাদশ শ্রেণির অর্ধ বার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে। ২০১৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষার সময় বোর্ডের বর্হিঃপরীক্ষক হিসেবে বোর্ডের দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি তাদের যাতায়াত ও খাওয়া-দাওয়া ভাতাও দেয়া হতো না।

জাতির জনকের পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকার জাতিয়করণের যে ঘোষণা দিয়েছে তার মধ্যে ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনা মহাবিদ্যালয়’ অন্যতম। ২০২০ সালের ১৭ জানুয়ারি এই কলেজটি সরকারি করনের ঘোষণা দেয় সরকার। এরপরই শুরু হয় বিপপ্তি। কলেজ জাতিয়করণ হচ্ছে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৫ সালে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের কাছে মোটা অংকের অর্থ দাবি করেন অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন। 

দাবিকৃত অর্থ দিতে না পারায় ১৭জন শিক্ষক এবং একজন অফিস সহকারীকে মৌখিকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।

২০১৫ সালের ১৮ অক্টোবর থেকে বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) নির্দেশে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকলেও পেছনের তারিখে অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে কোন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নতুন করে ২০জন শিক্ষক নিয়োগ দেন ডিজির প্রতিনিধি এবং সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের স্বাক্ষর ছাড়াই। নিয়োগপ্রাপ্তদের বোর্ড-বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফলও উল্লেখযোগ্য নয়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে অধ্যক্ষ মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আগের নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে যারা অন্যত্র চাকুরী করে তাদের স্থানীয় এমপি’র পরামর্শে বাদ দেওয়া হচ্ছে। নতুন নিয়োগ বন্ধ থাকলেও ২০জন শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে অনেকের অন্যত্র চাকুরী করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলেও সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি। তিনি এই প্রতিবেদকের সাথে একান্তে দেখা করার প্রস্তাব দেন। 

দেশরত্ন শেখ হাসিনা মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ বোর্ডের ডিজির প্রতিনিধি সরকারি বরিশাল কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ প্রফেসর খন্দকার অলিউল ইসলাম জানান, তার বোর্ড ২২ জন শিক্ষক ও ৬জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছে মেধার ভিত্তিতে। তাদের বাদ দেয়ার কোন বৈধতা নেই। বোর্ডকে পাশ কাটিয়ে নতুন করে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের বৈধতা সরকারি আইনে কোন কলেজ অধ্যক্ষের নেই। শিক্ষকতার কোন অভিজ্ঞতা ছাড়া আনোয়ার হোসেন কিভাবে একটি কলেজ অধ্যক্ষ হলেন তার কোন ব্যাখ্যা জানা নেই বলে জানান প্রফেসর খন্দকার অলিউল ইসলাম।