সোমবার, ২৬ অক্টোবার ২০২০, ১২ কার্তিক ১৪২৭

সাইফুর রহমান মিরণ

Oct. 16, 2020, 12:44 a.m.

শুটকি তৈরি শিখতে বিদেশ! প্রকল্পের অর্থ ব্যয় যেন মূল কাজ না হয়
শুটকি তৈরি শিখতে বিদেশ! প্রকল্পের অর্থ ব্যয় যেন মূল কাজ না হয়
ভোরের আলো - ছবি:

শুঁটকি উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিখতে ৩০ জনকে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ৭০ লাখ টাকা। ‘কক্সবাজার জেলায় শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন’ প্রকল্পের অধীনে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২০০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

বাংলাদশে বর্তমানে সারা বছর কক্সবাজার এবং ক্ষেত্র বিশেষে কুয়াকাটা এলাকায় শুঁটকি উৎপাদন করা হচ্ছে। শুঁটকি তৈরি একটি অতি প্রচলিত মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতি। এর সঙ্গে হাজার হাজার  শ্রমিক যুক্ত আছে। বহু বছর ধরে স্থানীয় প্রক্রিয়ায় তারা শুঁটকি উৎপাদন করেন তারা। আমাদের দেশের উৎপাদিত শুটকি সিঙ্গাপুর, হংকং, মালয়েশিয়া, যুক্তরোজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশে উৎপাদিত শুঁটকি রপ্তানি হয়।

আমাদের দেশেই দীর্ঘদিন ধরে প্রকিয়াকরা শুটকি দেশের বাইরে যাচ্ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আসছে। সেই শুটকি তৈরি শিখতে ৩০ কর্মকর্তা দেশের বাইরে যাবেন। স্থানীয় পর্যায়ে শুটকি তৈরির সঙ্গে যুক্তরা বলছেন শুটকি প্রক্রিয়া শিখতে বিদেশ যেতে হবে কনে?  শুটকি করার প্রক্রিয়া একই। দরকরার শুধু আধুনিক কিছু ষড়ঞ্জাম। যেমন বড় আয়তনের শেড দরকার। দরকার আধুনিক প্যকেটিং কারখানা এবং কাজের পরিবেশগত দিন ও মান ঠিক রাখা। শুটকি করা শিখতে দেশের বাইরে যাওয়ার দরকার পড়ে না। এটা কেবল একটি প্রকল্প নিয়ে সেই প্রকল্পে বিদেশ ভ্রমণ করার সুযোগ সৃষ্টি ছাড়া আর কিছুই না।

বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই বাণিজ্যিক শুঁটকি উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রকার কৃষিজ কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। তাছাড়া শুঁটকি তৈরির সময় মাছ ভালোভাবে পরিষ্কার না করা, পরিবেশ, আবহাওয়া ও গুণগতমান রক্ষার অভাবে কাঙ্খিত মানসম্পন্ন শুঁটকি তৈরি সম্ভব হয়ে ওঠে না। এসব কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) নতুন ওই প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পের প্রস্তাবনা তারা পরিকল্পনা কমিশনে। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। তবে করোনা মহামারির কারণে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ খাতের ব্যয় কমানো প্রয়োজন বলে মত দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

শুটকি প্রক্রিয়ার জন্য প্রায় আড়াইশ কোটি টাকার প্রকল্প রেনওয়া হয়েছে। ওই প্রকল্পের মধ্যে প্রশিক্ষণে কেবল দেশের বাইরে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। দেশের ভেতরে প্রশিক্ষণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ২১ লাখ টাকা। কেবল সপ্রশিক্ষণে ব্যয় হবে ২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় একটি জিপ, একটি ডাবল কেবিন পিকআপ, একটি মাইক্রোবাস ও চারটি মোটরসাইকেল কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় চারজন কর্মকর্তার মূল বেতন ধরা হয়েছে ৬৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা এবং ৩ জন কর্মচারীরর মূল বেতন ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় একজনের মোবাইল ভাতা ধরা হয়েছে ৯৭ হাজার টাকা। একজনের মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা ধরা হয়েছে ২১ লাখ টাকা। পেট্রোল ও লুব্রিকেন্ট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬ লাখ টাকা। সাত জনের বাড়ি ভাড়া ভাতা ধরা হয়েছে ৩৮ লাখ ১০ হাজার টাকা। যদিও প্রকল্পের ডিপিপিতে এসব বিষয় সংশোধন করতে বলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

শুটকি উৎপাদন এবং প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন করা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় যেন বাড়তি খাতে খরচ দেখানো না হয়। একই সঙ্গে আড়াইশ কোটি টাকার প্রকল্পের ঐচ্ছিক খরচ যেন না হয়। শুটকির জন্য প্রশিক্ষণের নামেও যেন অর্থ অপচয় না হয়। স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেই যেন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।